আমন্ত্রণ (চতুর্থ পর্ব)

।।১।। -“পার্সেল? কোন পার্সেল? কই জানি না তো কিছু।” ছেলের সাথে কথা বলতে বলতে মাথা মুন্ডু কিছুই বুঝছিলেন না নীলিমাদেবী। খানিক বাকবিতণ্ডার পর ছেলের মুখে “হ্যাপি বার্থডে মা” শুনে হাসি ফুটল বয়স্ক মানুষটার মুখে। এই মানুষটার মুখে হাসি দেখতে এত ভাল লাগে রুহির, কেন জানে না। মনে হয় যেন এই মানুষটার হাসিটুকুর জন্য ও সব […]
আমন্ত্রণ (তৃতীয় পর্ব)

“আজ অবধি মুখের উপর কেউ কথা বলতে পারেনি, তোমার সাহস দেখে তো আমি অবাক হয়ে যাচ্ছি। আমি সব ব্যবস্থা করে দিচ্ছি, তুমি নিজের ছেলেকে নিয়ে ‘আমন্ত্রণ’-এই থাকবে, ব্যস। আমি আর কোন কথা শুনতে চাই না।” বলে চলে গেলেন নীলিমাদেবী। রুহি বলে মেয়েটার, ওর ছেলেটাকে নিয়ে শেষ পর্যন্ত ঠাঁই নীলিমাদেবীর বাড়িতেই। সবাই বলছে, ওরে তোর ভাগ্য […]
আমন্ত্রণ (দ্বিতীয় পর্ব)

-“তুই কতটা বেআক্কেলে আমি শুধু ভাবছি সেটা, তুই ওটা ওকে গিয়ে বলে দিলি? কেউ বলে এটা?” নীলিমাদেবী ছেলে আকাশের উদ্দেশ্যে কথাগুলো বলে রান্নাঘরে চলে গেলেন। আজ মর্নিং ডিউটি নেই, দুপুরে খেয়েদেয়ে বেরবেন, তাই হাতে সময় আছে বেশ খানিক্ষন, পোস্তটা সবে নামাতে যাচ্ছিলেন তখনই আকাশ বলল কথাটা, “তাতে কী হয়েছে মা, ও তো বারবার জানতে চাইছে, […]
আমন্ত্রণ ( প্রথম পর্ব )

।।১।। “মালতী, তোকে কতবার বারণ করেছি আগের দিনের খবরের কাগজের সাথে নতুন কাগজ রাখবি না। কতবার বলতে হয় বলতো তোকে?” বলতে বলতেই দ্রুত হাতে কাজগুলো গোছাতে লাগলেন নীলিমা দেবী, ডঃ নীলিমা ভট্টাচার্য। ঘড়ির কাঁটা তখন সবে ৭টার ঘর ক্রস করেছে মাত্র, মালতী যেদিন বুঝে যায় মাসির মেজাজ গরম আছে, আর রা কাড়ে না মুখে, বেশী […]
এই বেশ ভালো আছি

।।১।। ট্রাঙ্ক থেকে ন্যাপথালিন দেওয়া গুটি কয়েক তোলা শাড়ি থেকে একটা শাড়ি বের করছিল মায়া । ছোট্ট দু’কামরার ঘরে এককোণে খাট, ছোট্ট আলনা, ট্রাঙ্ক, কুঁজো, তেলচিটে রান্নাঘরের নুন, তেলের কৌটোর সাথে হাতে গোনা বাসন, অনেকটা অভাব আর তার থেকেও বেশী ভালবাসা নিয়ে চলে মায়ার জীবন। মায়া আর অমল-এর ছোট্ট পাপাইকে নিয়ে এই সংসার। মাকে শাড়ী […]
বাঁচতে চাই

।।১।। সাউথসিটির ১২তলার বিলাসবহুল এই ফ্ল্যাটে এখনও সকাল হয়নি। সূর্যের আলো ঘরে ঘরে উঁকি দিলেও এই ঘরে দিতে পারেনি, দামী পর্দা পেরিয়ে তার ঢোকার অনুমতি নেই কিনা। ঘড়ির কাঁটা জানান দিচ্ছে সকাল এগারোটা প্রায়। ঘরে ইতিউতি ছড়িয়ে কাগজপত্র, সিগারেটের টুকরো। অগোছালো ঘরটার মাঝেই গোল খাটটা। সেখানেই এখনও নেশায় বেহুঁশ পঙ্কজ, পঙ্কজ চৌধুরী। একটা নামজাদা কোম্পানীর […]
আলো-আবছায়ায় (অন্তিম পর্ব)

ষষ্ঠ পর্ব ।।১।। আজ সময় যেন কাটতেই চাইছে না, সময়ের থেকে বেশ খানিকটা আগেই গাড়ি নিয়ে অপেক্ষা করছে আদি। অপেক্ষা করতে করতেই ভাবনায় হারিয়ে যাচ্ছিল ও। আজ অনেক কিছু বলার আছে হিরুকে। এভাবে ও কোনদিন কখনো পাগল হবে, নিজেও ভাবেনি। একটা লং ড্রাইভ, দুপাশে ঘন সবুজ, বৃষ্টি ভেজা শহর থেকে অনেকটা দূরে, সঙ্গে পছন্দের গান […]
আলো-আবছায়ায় (পঞ্চম পর্ব)

পঞ্চম পর্ব ছন্নছাড়া হয়ে নিজের ঘরের বারান্দাটায় বসেছিল আদি। বিগত দু-চারদিন হাতে তুলিটা ধরার ক্ষমতাও ছিল না। এই ক’দিন রঙ ছাড়া কাটিয়ে আজ বড্ড হাসফাঁস করছে যেন মনটা, আর তাই বিছানায় শুয়ে থাকতে পারলো না। কিছু আঁকার সরঞ্জাম এইখানেই দিয়ে যেতে বলেছে। ও একটু আঁকতে চায় – এই নীল আকাশটা, সাদা মেঘের ভেসে বেড়ানো, কিছু […]
আলো-আবছায়ায় (চতুর্থ পর্ব)

চতুর্থ পর্ব ।।১।। আজ ঘরে ঢুকে চারপাশটা কী সাংঘাতিক রঙীন লাগছে হিরুর। ভীষণ প্রাণবন্ত, ফ্রেশ। সে মিয়োনো ভাবটা যেন কেটে গেল একলহমায়। আদিত্য বেশ খানিকটা চলে গেছিল, তারপর হিরু ফোন করে ওকে, ফোনটা দেবার জন্য। ফোনটা ফেরত দেবার সময় কী মারাত্মক লজ্জা লাগছিল ওর। যেন সব রক্তগুলো কানের কাছে, গালের কাছে এসে জড়ো হয়েছে। আদিত্য […]
আলো-আবছায়ায় (তৃতীয় পর্ব)

তৃতীয় পর্ব ।।১।। ঘরটা বাগানের কাছে, সামনের একমুঠো সবুজটা এখন অন্ধকারে যদিও দেখা যাচ্ছে না। আদিত্যই বলল, ” এই জানলাটা দিয়েই দিনের প্রথম আলোটা আমার এই ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা সৃষ্টিগুলোকে ছোঁয়, এই ঘরটা আমার ভীষণ ভীষণ প্রিয়। বিশাল ঘরটায় আদির আঁকা অনেক অনেক ছবি। সত্যি ছবিগুলো দেখতে দেখতে কোথাও একটা হারিয়ে যাচ্ছিল হিরু। আঁকার ব্রাশ, […]