পাঁচ ঘন্টা পর (প্রথম পর্ব)

।।১।। -“মা, তাড়াতাড়ি চুলটা বাঁধো না, এত বড় চুল খুলে গেলে আবার ঝাড় খাবো, বড়দির চোখে পড়লে তো কথাই নেই, ও মা।।। মা।” -“আরে দাঁড়া, ভাত খেয়ে উঠে তো চলে গেলি, এঁটোটা কে তুলবে? সব কাজ তো আমাকেই সামলাতে হবে। সুধার মা, তুমি বরং আগে বাসনটা মেজে নাও, মেয়ে বেরিয়ে গেলে তারপর ঘর মুছবে খন, […]

ধূসর (অন্তিম পর্ব)

-“কীরে, খাবারটা এখনো খাসনি? কখন রেখে গেলাম,” বলতে বলতেই ঘরে ঢুকলেন বেলাদেবী। সাগ্নিক নিজের ঘরেই আছে আজ সারাদিন, ছুটি নিয়েছে আজ। জানলাটা দিয়ে খেলার মাঠটার দিকেই চেয়ে রয়েছে অন্যমনস্কভাবে। জানলার কাছেই ওর স্টাডি টেবিলটা, ওখানেই বসে রয়েছে সেই সকাল থেকেই। বেলাদেবী বুঝলেন কিছু একটা ভীষণভাবে ভাবাচ্ছে সাগ্নিককে। মা তো, এটুকু তো বুঝবেনই, তাই বেশী ভূমিকা […]

ধূসর (পর্ব – ৫)

(কয়েকদিন পর) -“কানাই, দিদি কোথায়?” চৌকাঠ পেরিয়ে এই বাড়িতে ঢুকে প্রথম এই প্রশ্নটাই করলেন বেলাদেবী। বেশ কিছুদিন পর এই বাড়ি এলেন, এই ভাবে,এই পরিস্থিতিতে আসতে হবে কখনো ভাবেননি। কানাই হাতের কাজ থামিয়ে উপরের ঘরের দিকে ইশারা করল। বেলাদেবীও আর সময় নষ্ট না করে দোতলার দিকে পা বাড়ালেন। *************** সারা আকাশ কালো মেঘে ঢাকা, সঙ্গে ঝোড়ো […]

ধূসর (পর্ব – ৪)

কলেজের ফেস্ট থেকে আজ একটু তাড়াতাড়িই বেরিয়ে পড়ল দেবাংশী। তাড়া আছে আজ, মা-এর সাথে বেরোতে হবে আর আধ ঘন্টার মধ্যে, নয়তো মা আর বেরবে না। তাড়াতাড়ি পা চালাচ্ছিল দেবাংশী।  তখনই পিছন থেকে ডাকল, অয়নদা, দেবাংশীর থেকে দুই বছরের সিনিয়র। ব্রাইট স্টুডেন্ট, তাই কলেজে ঢোকার পর থেকেই অয়নদার ব্যাপারে কম শোনেনি ও, তবে সরাসরি কখনোই কথা […]

ধূসর (পর্ব-৩)

-“হ্যাঁ মা, বলো, কোথায় তুমি, কতদূর?” -“এই পৌঁছেই গেছি প্রায়। পৌঁছে ফোন করছি, অ্যালার্ট থাকিস, দরজাটা খুলিস।” ফোনটা রেখে দোকানে ঢুকল দেবাংশী। হালকা গয়না, ছোট্ট টিপ, কাজল, খোলা চুলে আর সর্ষে রঙা শাড়ীটায় আজ বহুদিন পর দেবাংশী। আগেরবারের থেকে এবারের ওবাড়ি যাওয়াটা একটু হলেও বিশেষ। সাগ্নিকের পছন্দের পারফিউমটা প্যাক করিয়ে দোকান থেকে বেরতে বেরতে সন্ধ্যে […]

ধূসর (পর্ব – ২)

।।১।। -“না মা, আমার সত্যিই আজ হবে না, অফিসে আজ ছুটি পাবো না গো। তুমি বারবার বললে যেতে না পারলে খুব খারাপ লাগে আমার। কিন্তু কিছু করার নেই তো।।।” -“হয়ে গেছে তোর বকা? অনেক বকেছিস, আর না বকে চুপচাপ চলে আসবি, আমায় কিছু বোঝানোর চেষ্টা করে লাভ নেই, আমি কিন্তু বসে থাকবো তোর জন্য।।।” -“মা, […]

ধূসর (পর্ব – ১)

।।১।। “আরে, ও মা, দরজাটা খোলো না, কখন থেকে বেল মারছি, ধ্যুর”, বলতে বলতেই বাড়ির দরজায় বারবার অস্থিরভাবে বেল মারছিল শিবাঙ্গী। ঘড়ির কাঁটায় চোখ বোলাল একবার। গুনে গুনে ছ’মিনিট ধরে পাক্কা দাঁড়িয়ে। কী যে করে, উফফ।।। একেই বাইরে প্রচন্ড গরম, তার মধ্যে এই ভর দুপুর, মায়ের ওপর সবসময় দোষ দেয়াও যায় না সবসময়, একা মানুষ […]

আমন্ত্রণ (অন্তিম পর্ব)

নীলিমাদেবী হাতের থালাটা তাতানের ঘরে রেখে দিলেন, ছেলের প্রিয় চাউমিন বানিয়েছিলেন অনেকদিন পর। বাড়ির সাধারণ আলু, পেঁয়াজ, সবজি, টমেটো-সস দিয়ে চাউমিনটা তাতানের ছোট থেকেই লাঞ্চবক্সের প্রিয় আইটেম ছিল, ওটাই আজ করেছিলেন। এই অবস্থায় কোন কথাই নিষ্প্রয়োজন, কুরুচিকর। নীলিমাদেবী একটি শব্দও খরচ করলেন না, ফিরে যাচ্ছিলেন, তাতান বলল তখনই, -“মা, ঠিক কী কী বলেছ তুমি এই […]

আমন্ত্রণ (চতুর্থ পর্ব)

।।১।। -“পার্সেল? কোন পার্সেল? কই জানি না তো কিছু।” ছেলের সাথে কথা বলতে বলতে মাথা মুন্ডু কিছুই বুঝছিলেন না নীলিমাদেবী। খানিক বাকবিতণ্ডার পর ছেলের মুখে “হ্যাপি বার্থডে মা” শুনে হাসি ফুটল বয়স্ক মানুষটার মুখে। এই মানুষটার মুখে হাসি দেখতে এত ভাল লাগে রুহির, কেন জানে না। মনে হয় যেন এই মানুষটার হাসিটুকুর জন্য ও সব […]

আমন্ত্রণ (তৃতীয় পর্ব)

“আজ অবধি মুখের উপর কেউ কথা বলতে পারেনি, তোমার সাহস দেখে তো আমি অবাক হয়ে যাচ্ছি। আমি সব ব্যবস্থা করে দিচ্ছি, তুমি নিজের ছেলেকে নিয়ে ‘আমন্ত্রণ’-এই থাকবে, ব্যস। আমি আর কোন কথা শুনতে চাই না।” বলে চলে গেলেন নীলিমাদেবী। রুহি বলে মেয়েটার, ওর ছেলেটাকে নিয়ে শেষ পর্যন্ত ঠাঁই নীলিমাদেবীর বাড়িতেই। সবাই বলছে, ওরে তোর ভাগ্য […]